শীর্ষ সংবাদঃ

» চলমান “করোনা সংকটে” ক্যান্সার সার্জারি 

প্রকাশিত: 06. April. 2020 | Monday

চলমান “করোনা সংকটে” ক্যান্সার সার্জারি

ডাঃ ফারুকুজ্জামান

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিগত কয়েক বছর গুলোতে যত রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছে, তাদের একটা বড় অংশ ছিল ক্যান্সারের রোগী। এসব রোগীর সিংসহভাগ ছিল স্তন ক্যান্সারের রোগী। ক্যান্সারের অন্যান্য রোগীদের মধ্যে প্রধানত ছিল পাকস্থলী, মলাশয়, বৃহদান্ত, পিত্তথলি, প্যানক্রিয়াস-এর ক্যান্সারের রোগী।
ক্যান্সার মরণঘাতী ব্যাধি। কিন্তু এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য, যদি তা প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্তকরণ করা যায় এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু করা যায় । আসুন “প্রাথমিক পর্যায়” কথাটা আরেকটু পরিষ্কার করি। ক্যান্সারের সাধারণভাবে পর্ব ৪ টি: ১ম, ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, ১ম ও ২য় পর্যায়ে এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে, ৩য় পর্যায়েও এই রোগ নিরাময়যোগ্য। ৪র্থ পর্যায়ে সামগ্রিকভাবে আরোগ্য অসম্ভব। “প্রাথমিক পর্যায়” বলতে সাধারণভাবে ১ম ও ২য় পর্যায়কেই বোঝানো হয়।

এখানে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

১) ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্তকরণ অতি জরুরি। যাতে করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায় এবং কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া যায়।

২) ক্যান্সারের চিকিৎসায় সমন্বিত সেবা অধিক জরুরি। সার্জারি, রেডিওথেরাপি, অনকোলজি ও অন্যান্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে একসাথে কাজ করতে হয়।

৩) আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সারের রোগীরা সাধারণত উপসর্গহীন থাকে। এজন্য ক্যান্সার ধরা পড়ার পরও, অনেক রোগীদের মধ্যে যথাসময়ে চিকিৎসা গ্রহণে অনীহা, গা-ছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে (বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে)। অনেকে আবার ঝুঁকে পড়ছেন কবিরাজি ও হোমিও চিকিৎসার উপর।

 

বর্তমান সংকট ও সীমাবদ্ধতা:

অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। তথ্যমতে, এখনো পর্যন্ত সর্বমোট ৭০ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং ৮ জন ইতিমধ্যে মৃত্যবরণ করেছেন। উল্লেখিত কারণে, অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালই তাদের সেবার পরিধি গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে, সাধারণ সেবা, ইমার্জেন্সি চিকিৎসাও বেঁধে ফেলতে হয়েছে সীমিত পরিসরের ছকে, করোনা সংক্রমণ প্রতিহত করার জন্য। কারণ, সংক্রমণ ব্যাপকহরে একবার শুরু হলে, তখন তা প্রতিহত করা অত্যান্ত দুরূহ কাজ হবে।

 

রোগীদের জন্য উপদেশ:

ক) ক্যান্সার মরণব্যাধি। প্রাথমিক পর্যায়ে (যেখানে ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য) চিকিৎসা শুরু করতে না পারলে, ফলাফল ভয়াবহ । তাই সন্দেহ হলে, যত দ্রুত সম্ভব সরকারি হাসপাতালের শরণাপন্ন হোন (যেখানে এই করোনা সংকটাপন্ন অবস্থাতেও ক্যান্সারের সেবা চালু আছে)।

খ) কবিরাজি, হোমিও চিকিৎসায় অযথা কালক্ষেপন করবেন না। আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, উদ্ভুত পরিস্থিতিতেও (আমার জানামতে) সকল সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে ক্যান্সারের চিকিৎসা যথারীতি চালু আছে। এমনকি ক্যান্সারের চিকিৎসা ও অপেরেশনকে ইমার্জেন্সি হিসাবে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

গ) ক্যান্সারের চিকিৎসা প্রদানের জন্য অনকোলজি (ক্যান্সার) বিভাগসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ যথারীতি সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। তাই বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে “ক্যান্সার চিকিৎসা বন্ধ আছে” কিংবা “ঘরে বসে কবিরাজি-হোমিও চিকিৎসা গ্রহণ করি”- এরকম মনে করার কোনো কারণ নেই। মনে রাখবেন, “ক্যান্সারের চিকিৎসায় সময় অমূল্য।”

 

ডাঃ ফারুকুজ্জামান
এফ সি পি এস (সার্জারি), এম এস ( সার্জারি ),
এম আর সি এস (ইংল্যান্ড), এম সি পি এস (সার্জারি)
সহকারী রেজিস্ট্রার, সার্জারি বিভাগ
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১১৯৬ বার

error: Content is protected !!