শীর্ষ সংবাদঃ

» ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ আতঙ্কে কয়রার মানুষ

প্রকাশিত: 18. May. 2020 | Monday

কামাল হোসেন, কয়রা: করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড় এখন ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে আয়লায় বিধ্বস্ত খুলনার কয়রা উপজেলার মানুষ। সুন্দরবনের পাদ দেশে বসবাসরত নদ তীরবর্তী বেড়িবাঁধের বাইরে ও বাঁধের কাছাকাছি বাসিন্দারা আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা, গেছে ঝড়ের অবস্থান ও গতিপ্রকৃতি দেখে বোঝা যাচ্ছে, বিধ্বংসী ক্ষমতা নিয়ে এটি বাংলাদেশের দিকেই এগিয়ে আসছে এবং মঙ্গলবার (১৯ মে) শেষ রাত থেকে বুধবার (২০ মে) বিকেল-সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলীয় অঞ্চল খুলনা ও সাতক্ষীরা অতিক্রম করতে পারে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, বাংলাদেশের মোংলা বন্দর থেকে এখনো প্রায় ৯শ নব্বুই কিলোমিটার দুরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান।

খুলনার উপকূলীয় এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম বেড়িবাঁধ। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় আইলার পর ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কার করা হলেও সেগুলোও দীর্ঘমেয়াদি হয়নি।খুলনার কয়রা উপজেলার চারদিকে নদী বেষ্টিত। শুধুমাত্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ দু’টি জনপদকে ঘিরে রেখেছে। দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়া বিরূপ হলে পানির চাপে কোথাও কোথাও ভেঙে পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। উপকূলীয় জনপদের বেশ কিছু জায়গা রূপ নেয় স্থায়ী জলাবদ্ধতায়। মাঝে মধ্যে গ্রীষ্ম মৌসুমেও বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢোকে।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে কয়রার ২৫ কিলোমিটারের মতো বেড়িবাঁধ জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছে। বেড়িবাঁধের কোথাও কোথাও মাত্র দেড় থেকে দুই হাত মাটি অবশিষ্ট রয়েছে। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, বাঁধের অনেক জায়গা দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে (লিকেজ) পানি প্রবেশ করছে। জোড়াতালির বেড়িবাঁধ, দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত কার্যক্রমের অভাব এখনও দৃশ্যমান।

তিনি আরো বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দাতা সংস্থানির্ভর এনজিও কার্যক্রমও ঝিমিয়ে পড়েছে। এছাড়া বহুদিনের পুরোনো বেড়িবাঁধগুলোর টেকসই সংস্কার ও বাঁধ উন্নয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘসূত্র ও তৎসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও চিংড়ি চাষিরা বাঁধগুলো ছিদ্র করে তাদের ঘেরে লবণ পানি তুললেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে নির্বাক প্রশাসন। এর মধ্যে আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এতে আতঙ্ক বেড়ে গেছে এসব এলাকার মানুষের। বিশেষ করে ঝুঁকির মুখে রয়েছে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের আংটিহারা, খাসিটানা, জোড়শিং, মাটিয়াভাঙ্গা। উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতিরঘেরি, গাববুনিয়া, গাজিপাড়া, কাটকাটা। কয়রা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর কয়রা, ৪ নম্বর কয়রার পুরাতন লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা, মদিনাবাদ লঞ্চ ঘাট, ঘাটাখালি, হরিণখোলা। মহারাজপুর ইউনিয়নের উত্তর মঠবাড়ি, দশালিয়া, লোকা। মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি, নয়ানি, শেখেরটেক এলাকা।

এদিকে, প্রাকৃতিক এ দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কয়রা উপজেলা প্রশাসন। শারীরিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ঘূর্ণিঝড়ে কয়রার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম,প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিমের।  এরই মধ্যে কয়রাবাসীকে সতর্ক করতে মাইকিং শুরু হয়েছে।

উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন,  ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বরদেরকে  প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনার মধ্যে শারীরিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ও ১১৬ টি আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি এড়াতে কাজ করছেন রেডক্রিসেন্ট, সিপিপি, বেসরকারি এনজিও’র স্বেচ্ছাসেবক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৪৭ বার

error: Content is protected !!