শীর্ষ সংবাদঃ

» পাকস্থলীর ক্যান্সার নিয়ে কিছু কথা – ডাঃ ফারুকুজ্জামান

প্রকাশিত: 23. November. 2020 | Monday

জনাব নজরুল মোল্লা (ছদ্মনাম), বয়স ৭২ বছর, কৃষি কাজ করেন গ্রামে l খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি হলেন বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে l মাস খানেক ধরে কিছু খেতে পারছেন না, প্রতিদিন বার বার বমি হচ্ছে, গত তিন মাসে ওজন কমেছে প্রায় অর্ধেক (রোগীর ভাষ্যমতে) l বেশ কিছুদিন ধরে পেটের উপর একটি শক্ত চাকা অনুভব করছেন l গত ১০-১২ দিন ধরে জন্ডিস l উপসর্গ দিন দিন বাড়ছে l Endoscopic Biopsy রিপোর্ট থেকে নিশ্চিত হওয়া গেলো যে, তিনি পাকস্থলীর ক্যান্সারে ভুগছেন l

পাকস্থলীর ক্যান্সার:
পাকস্থলীর ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ, যদি তা শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায় l অন্যথায় পরিনাম ভয়াবহ l কিন্তু বাস্তবতা হলো, পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা খুব শক্ত বিষয় l যার সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত কিছু কারণও আছে:

১) পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণভাবে উপসর্গহীন l কোনো কোনো ক্ষেত্রে, এ পর্যায়ে যে সব উপসর্গ প্রকাশিত হয় তা ও অস্পষ্ট (পাকস্থলীর অন্য রোগের উপসর্গ থেকে আলাদা করা যায় না) l

২) পাকস্থলীর ক্যান্সার নিশ্চিতভাবে সনাক্তকরণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা হলো Endoscopic Biopsy (এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে পাকস্থলীর ভিতরের অংশ পরীক্ষা করে সেখান থেকে মাংস নিয়ে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো) l বাস্তবতা হলো, অস্বস্তির কারণে অনেক রোগীই সময়মতো পরীক্ষাটি করতে অনীহা প্রকাশ করেন l

৩) অনেক ক্ষেত্রেই, প্যাথোলজিস্টরা প্রাথমিক পর্যায়ে মাংস পরীক্ষার সাথে খুব একটা পরিচিত নন l এ সমস্যা শুধু এখানেই নয়, উন্নত বিশ্বসহ সবখানেই l তাই অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ ধরা দুরূহ হয়ে পড়ে l

সাধারণ উপসর্গসমূহ:
১) প্রাথমিক পর্যায়:
উপসর্গহীন l কখনো কখনো অস্পষ্ট লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায় l পাকস্থলীর অন্য সাধারণ রোগ, বিশেষেশত পেপটিক (পাকস্থলীর) আলসার থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে l এ পর্যায়ে এ রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য l

২) পরবর্তী পর্যায়:
পরবর্তী পর্যায়ে রোগী আর স্বাভাবিক খাবার খেতে পারে না l ঘন ঘন বমি হয় l দ্রুত ওজন কমতে থাকে l পেটের উপর শক্ত চাকা অনুভব হতে পারে l রোগ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে তারও বহিঃপ্রকাশ দেখা যেতে পারে (যেমন: জন্ডিস) l

চিকিৎসা:
প্রাথমিক পর্যায়ে অপেরেশনের মাধ্যমে পাকস্থলীর ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য l অপারেশন পরবর্তী সময়ে কেমোথেরাপি নেয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে l পরবর্তী পর্যায়ে রোগ পাকস্থলীর বাইরে যকৃৎ (Liver)-সহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে (যেমন: ফুসফুস, মস্তিস্ক, হাড়) ছড়িয়ে পড়ায় রোগটি আর আরোগ্যের পর্যায়ে থাকে না l নিশ্চিত মৃত্যু পথযাত্রী রোগীর উপসর্গের চিকিৎসা করাই তখন মুখ্য লক্ষ্য l কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপসর্গ কমাতে কেমোথেরাপি দেয়া হয় l ক্ষেত্র বিশেষে রোগীর উপসর্গ কমাতে (বমি, রক্তবমি, খেতে না পারা) অপারেশন করা হয় l তবে এতে রোগীর রোগের কোনো উন্নতি হয় না, শুধুমাত্র সাময়িকভাবে উপসর্গ কমে l

ডাঃ ফারুকুজ্জামান
FCPS, MS, MRCS, MCPS,
সার্জারি বিশেষজ্ঞ,
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৯৭ বার

error: Content is protected !!